প্রচ্ছদ

ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর কিছু স্বৈরশাসক!

2019/10/Sangbad-22.png

কিছু স্বৈরশাসক সামরিক শক্তি দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকেন, কেউ আবার টিকে থাকেন তথাকথিত গণতন্ত্রের আবরণে৷ বাংলাদেশও বাদ পড়েনি সে তালিকা থেকে। আজকের সংবাদের ফটো গ্যালারিতে থাকছে ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর কয়েকজন স্বৈরশাসকের কথা৷

[caption id="" align="alignnone" width="2879"]Image result for student protesters in bangladesh Sheikh Hasina(Bangladesh)[/caption]

শেখ হাসিনা

২০১৮ সলে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও জনপ্রিয় জরিপভিত্তিক ওয়বসাইট ‘দি টপটেনস’ এ একটি দীর্ঘমেয়াদী জরিপের মাধ্যমে সেরা স্বৈরাশাসক নির্বাচিত হন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

ওয়েবসাইটটি বিশ্বের ৫০ জন স্বৈরাশাসককে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি একটি জরিপ পরিচালনা করে। সেখানে দেখা গেছে, শতকরা সর্বোচ্চ ১৯ শতাংশ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিকৃষ্ট স্বৈরশাসকের তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।

জরিপটিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ অংশগ্রহন করেছেন। তারা ভোট দেয়ার পাশাপাশি স্বৈরাশাসকদের সম্পর্কে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন সেখানে। মন্তব্যে দেখা গেছে অন্যদের তুলনায় অত্যধিক পরিমানে মন্তব্য করা হয়েছে শেখ হাসিনার প্রতি।

[caption id="" align="alignnone" width="700"]default Adolf Hitler (Germany)[/caption]

হিটলার নিষ্ঠুরতার তালিকায় নিঃসন্দেহে সবার আগে থাকবে জার্মানির আডল্ফ হিটলারের নাম৷ হিটলারের অপরাধের তালিকাও বেশ বড়৷ এক কোটিরও বেশি মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে৷ এর মধ্যে ৬০ লাখই ছিলেন ইহুদি৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তার কারণেই শুরু হয়, সে যুদ্ধে প্রাণ হারান সাত কোটি মানুষ৷

[caption id="" align="alignnone" width="700"]default Mao Zedong (Chinese communist)[/caption]

মাও সে তুং মাও-কে বলা যেতে পারে আধুনিক চীনের রূপকার৷ তার বিরুদ্ধেও রয়েছে বহু মানুষকে হত্যার অভিযোগ৷ ১৯৫৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের অনুসরণে অর্থনৈতিক মডেল দিয়ে উন্নয়নের কথা বলেন৷ হত্যা করা হয় সাড়ে চার কোটি মানুষকে৷ ১০ বছর পর সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নামে আরো প্রায় তিন কোটি মানুষকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে মাও-এর বিরুদ্ধে৷

[caption id="" align="aligncenter" width="700"]default Joseph Stalin (USSR)[/caption]

জোসেফ স্টালিন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ভ্লাডিমির লেনিনের মতে স্টালিন ছিলেন অনেক কঠোর স্বভাবের মানুষ৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তার নেতৃত্বে হিটলারের জার্মানিকে হারাতে ভূমিকা রাখে সোভিয়েত ইউনিয়ন৷ কিন্তু স্টালিন নিজেও ছিলেন স্বৈরাচারী৷ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদেরই নয় শুধু, তার ৩১ বছরের শাসনামলে হত্যা করা হয় অন্তত ২০ লাখ মানুষকে৷

[caption id="" align="alignnone" width="700"]default Benito Mussolini ( Italy)[/caption]

বেনিতো মুসোলিনি ফ্যাসিজমের প্রণেতা হিসেবে মনে করা হয় ইটালির এই স্বৈরশাসককে৷ ১৯২২ সালে ফ্যাসিস্ট শক্তি কিংডম অব ইটালির ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিতো মুসোলিনি৷ তার থেকেই জার্মান ফ্যাসিস্ট শাসক হিটলার অনুপ্রেরণা পান বলে ধারণা করা হয়৷ ১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হেরে ক্ষমতাচ্যূত হন মুসোলিনি৷ ১৯৪৫ সালে স্পেনে পালানোর সময় তাকে হত্যা করা হয়৷

[caption id="" align="alignnone" width="700"]default Francisco Franco (Spain)[/caption]

ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কো স্পেনের গৃহযুদ্ধে জয়ী হয়ে ১৯৩৯ সালে ক্ষমতায় আসেন জেনারেল ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কো৷ গৃহযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে অন্তত দেড় লাখ বেসামরিক মানুষকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে৷ যুদ্ধের পরও কমপক্ষে ২০ হাজার বেসামরিক মানুষকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অক্ষশক্তির অন্যসব শাসকের পতন ঘটলেও ফ্রাঙ্কো ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৭৫ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত৷

[caption id="" align="alignnone" width="700"]default Pol Pot (Former Prime Minister of Cambodia)[/caption]

পল পট কম্বোডিয়ার খেমার রুজ আন্দোলনের নেতা ছিলেন পল পট৷ ক্ষমতায় আরোহণের পরবর্তী ১০ বছরে ৪০ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয় তাকে৷ বেশিরভাগের মৃত্যু হয় শ্রম ক্যাম্পে অনাহারে অথবা কারাগারে নির্যাতনের ফলে৷ ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত কম্বোডিয়ার বনে পল পট গেরিলাদের উপস্থিতি ছিল৷

[caption id="" align="aligncenter" width="700"]default Yahya Khan (Former President of Pakistan)[/caption]

ইয়াহিয়া খান ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পান ইয়াহিয়া খান৷ সে বছরই স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের কাছ থেকে পাকিস্তানের শাসনভার গ্রহণ করেন তিনি৷ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ হত্যা ও দুই লাখ নারীকে ধর্ষণ করে পাকিস্তানি বাহিনী৷ পরবর্তীতে ‘বাংলাদেশ গণহত্যা’ নামে পরিচিত এই নৃশংস ঘটনার জন্য দায়ী করা হয় তাকে৷

default

ফ্রাঁসোয়া দুভেলিয়ে ১৯৫৭ সালে হাইতির ক্ষমতায় বসেন দুভেলিয়ে৷ হাজার হাজার বিরোধী নেতা-কর্মীদের হত্যার নির্দেশ দেন তিনি৷ কালো জাদু দিয়ে মানুষকে মেরে ফেলার ক্ষমতা রাখেন, এমন দাবিও করতেন তিনি৷ হাইতিয়ানদের কাছে ‘পাপা ডক’ নামে খ্যাত ছিলেন এই স্বৈরশাসক৷ ১৯৭১ সালে মৃত্যুর পর তার ১৯ বছর বয়সি ছেলে জ্যঁ ক্লদ দুভেলিয়ে স্বৈরশাসক হন৷

[caption id="" align="alignnone" width="768"]Image result for অগাস্তো পিনোশে Augusto Pinochet[/caption]

অগাস্তো পিনোশে চিলির সামরিক বাহিনীর প্রধান অগাস্তো পিনোশে দেশটির সমাজতান্ত্রিক সরকারকে উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখল করেন ১৯৭৩ সালে৷ ক্ষমতায় আসার পর দেশ থেকে বামপন্থা নির্মূলের লক্ষ্যে হাজার হাজার বিরোধী কর্মীকে হত্যা নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে পিনোশের বিরুদ্ধে৷

default

সাদ্দাম হোসেন কুর্দি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইরাকের স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনের ঘৃণা কারো অজানা ছিল না৷ ১৯৭৯ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে তিন লাখ কুর্দিকে ইরাকে হত্যা করা হয়৷ রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও ছিল সাদ্দামের বিরুদ্ধে৷ মার্কিন বাহিনী ইরাক দখলের পর সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ ২০০৬ সালে তাকে ফাঁসি দেয়া হয়৷

[caption id="" align="aligncenter" width="700"]default Idi Amin (Former President of Uganda)[/caption]

ইদি আমিন আফ্রিকার দেশ উগান্ডার ক্ষমতায় সাত বছর ছিলেন ইদি আমিন৷ তার বিরুদ্ধে আড়াই লাখ মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে৷ জাতিগত নিধন, হত্যা ও নির্যাতনের এক অধ্যায় রচনা করেছিলেন ইদি আমিন৷ ‘উগান্ডার কসাই’ আখ্যাও পেয়েছিলেন তিনি৷ উৎখাত হওয়ার পর সৌদি আরবে পালিয়ে গিয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিলাসী জীবনযাপন করেছেন এই একনায়ক৷

default

মেঙ্গিস্তু হাইলে মারিয়াম ইথিওপিয়ার এই সমাজতান্ত্রিক স্বৈরশাসক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ নির্যাতন চালান৷ ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৮— এই এক বছরেই পাঁচ লাখ মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে৷ ক্ষমতা থেকে উৎখাতের পর গণহত্যার অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়৷ তবে মারিয়াম পালিয়ে যান জিম্বাবোয়েতে৷

[caption id="" align="aligncenter" width="700"]default Kim Il-sung (Former Premier of North Korea)[/caption]

কিম ইল সুং উত্তর কোরিয়ার এই নেতাই দেশটিতে কিম বংশের শাসন চালু করেন৷ ১৯৫০ সালে উত্তর কোরিয়া দখল করে দক্ষিণ কোরিয়ায় অভিযান চালালে শুরু হয় কোরিয়ান যুদ্ধ৷ এই যুদ্ধে মার্কিন সেনা এবং জাতিসংঘের সেনারাও জড়িয়ে পড়ে৷ এ যুদ্ধে উভয় পক্ষে মারা যান ১০ লাখেরও বেশি মানুষ৷

[caption id="" align="alignnone" width="700"]default Muammar Al Gathafi (Former Prime Minister of Libya)[/caption]

মুয়াম্মার গাদ্দাফি ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লিবিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি৷ হাজার হাজার মানুষকে, বিশেষ করে গণতন্ত্রকামীদের নির্বিচারে হত্যা ও নারীদের ধর্ষন, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে তার শাসনামলে৷ ২০১১ সালে এক অভ্যুত্থানে তাকে উৎখাত ও হত্যা করা হয়৷ তারপর থেকে গৃহযুদ্ধ চলছে দেশটিতে৷

জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠান বেরটেলসমান স্টিফটুং প্রতি বছর গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে৷ ২০১৮ সালের সবশেষ প্রতিবেদনে ৫০টি দেশ যা বর্তমানে ৫৮টি স্বৈরশাসকদের অধীনে বলে উল্লেখ করা হয়েছে৷ নতুন করে স্বৈরশাসনে যাওয়া দেশের তালিকায় রয়েছে লেবানন, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া এবং উগান্ডার নাম৷ এছাড়া অচিরেই তালিকায় ঢুকতে পারে হন্ডুরাস, হাঙ্গেরি, মলডোভা, নাইজার, ফিলিপাইনের নামও৷

মন্তব্য