প্রচ্ছদ

খাবারে সচেতনতা

2018/09/সবজি.jpg

‘করোনাভাইরাস আতঙ্কে ভুগছে সবাই। খাবারদাবার কি ভাইরাসটি ছড়ানোর মাধ্যম হতে পারে?’ প্রশ্ন রাখি বিশেষজ্ঞের কাছে। উত্তরটা না-বোধক। সব সময়ের জন্য সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই সুস্থ থাকার উপায়। এমনই জানা গেল বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে। তাই অযথা আতঙ্কিত হবেন না। আতঙ্ক ছড়াবেন না।

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট দীপঙ্কর কুমার বসাক জানালেন, খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়াবে ভেবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু পেপারের সাহায্যে নাক-মুখ ঢাকা (হাতের কাছে টিস্যু পেপার না পেলে কনুই বা বাহুর সাহায্যে নাক-মুখ ঢাকা), নির্দিষ্ট স্থানে কফ-থুতু ফেলা, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধের অন্যান্য নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে একে প্রতিরোধ করা সম্ভব। অযথা খাবারদাবার জীবাণুমুক্ত করার কথা ভেবে বাড়তি ঝক্কি সৃষ্টির কোনো প্রয়োজন নেই। তবে অন্যান্য রোগজীবাণু, যেগুলো খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়, সেগুলো প্রতিরোধে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে সব সময়।

ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতালের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের প্রধান ও প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ জানালেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সাধারণ নিয়মগুলো সব সময়ই মেনে চলা প্রয়োজন। তাহলেই খাবার ও পানিবাহিত রোগগুলো থেকে বাঁচা সম্ভব। তবে করোনাভাইরাস খাবারের মাধ্যমে ছড়ায় না বলেই জানালেন তিনিও।

খাবারদাবার ও পানির মাধ্যমে যাতে কোনো জীবাণুই না ছড়ায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে বাড়িতেই। বাইরের খোলা খাবার যতই সুস্বাদু মনে হোক না কেন, সেগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস প্রভৃতি রোগের জীবাণু খাবারের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। এ ছাড়া পচা-বাসি খাবারে বিষক্রিয়াও হতে পারে। করণীয়-বর্জনীয় জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে।

যা করবেন

● খাবার ঢেকে রাখুন। রান্নাঘর, খাবার টেবিল ও রান্নার সরঞ্জাম (কাটাকুটির সরঞ্জামসহ) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখুন (পোকামাকড় যেন না থাকে)।

● তাজা খাবার বেছে নিন।

● ভালোভাবে সিদ্ধ করা খাবার খান। সংরক্ষিত খাবার গরম করে খাবেন।

● খাবার সংরক্ষণের জন্য রেফ্রিজারেটরে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (মোটামুটিভাবে ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বা এর কম তাপমাত্রা সেট করে নেওয়া ভালো। খাবার কনটেইনারে সংরক্ষণ করা ভালো (খোলা বাটিতে নয়)।

● পাস্তুরিত দুধ বেছে নিন। নিতান্ত না পারলে কাঁচা দুধ উচ্চ তাপে ভালোভাবে জ্বাল দিয়ে (অন্তত ২০ মিনিট) এরপর খেতে হবে। ফুল ক্রিম গুঁড়ো দুধ তৈরির জন্য কুসুম গরম পানি আর লো-ফ্যাট গুঁড়ো দুধের জন্য স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিই যথেষ্ট।

● কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখুন। কাঁচা ও রান্না করা খাবারের জন্য আলাদা বাসনপত্র (চপিং বোর্ডসহ) বা ছুরি প্রভৃতি ব্যবহার করুন।

● খাবার তৈরি, পরিবেশন ও খাওয়ার আগে (এমনকি স্পর্শ করার আগে, সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। বাজার থেকে খাদ্যপণ্য নিয়ে আসার পর এবং যেকোনো সময় প্রাণিজ পণ্য স্পর্শ করার পরও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া উচিত। বাথরুম ব্যবহারের পরও সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। শিশুরা যাতে এই জিনিসগুলো মেনে চলে, তা খেয়াল রাখুন।

● বাসনপত্র পরিষ্কার রাখতে ফোটানো পানি ব্যবহার করা ভালো (বিশেষত প্লেট, গ্লাস, চামচ)।

যা করবেন না

● কাঁচা কিংবা ভালোভাবে সিদ্ধ না করা খাবার এড়িয়ে চলুন। ফলমূল ভালোভাবে না ধুয়ে খাওয়া যাবে না।

● রান্না করা ও পচনশীল খাবার বেশিক্ষণ বাইরে রাখা ঠিক নয়। যত দ্রুত সম্ভব, ফ্রিজে ওঠান। রান্না করা খাবার কোনোভাবেই ২ ঘণ্টার বেশি বাইরে রাখবেন না। তবে গরমের সময়টায় ১ ঘণ্টার বেশি না রাখাই ভালো। রেফ্রিজারেটরেও খুব বেশি দিন খাবার রাখা ঠিক নয়। হিমায়িত খাবার (ডিপফ্রিজে রাখা খাবার) বাইরে রাখবেন না। হিমায়িত খাবার কক্ষের তাপমাত্রায় রেখে দিয়েও গলাতে পারেন। এ ছাড়া ঠান্ডা পানি বা মাইক্রোওয়েভের সাহায্য নিয়ে গলাতে হবে (ডিফ্রস্ট)।

● সংরক্ষিত খাবারের ঘ্রাণ, বর্ণ, স্বাদের পরিবর্তন হয়েছে মনে হলে তা কাউকে খেতে দেবেন না। মেয়াদোত্তীর্ণ খাবারও নয়।

আহ! পানি

গরমের সময় রাস্তার ধারে লেবুর শরবত বিক্রি হয় হরহামেশা। বরফজলের শরবত দেখেই বুঝি প্রাণ আঁকুপাঁকু করতে থাকে! তবে এসব স্থান থেকে পানি (বা পানীয়) নিয়ে পান করা যাবে না। বাইরে কাজে বের হলে পানি সঙ্গে নিয়ে বের হওয়া উচিত। এ ছাড়া যে খাবারগুলো বেশি সময় ধরে উচ্চ তাপে বেশি সময় রান্না করা হয় না, সেগুলো রান্না করতে ও প্রস্তুতকরণের কাজে নিরাপদ পানি ব্যবহার করা ভালো (প্রস্তুতকরণ, যেমন—মাছ ধোয়ার সময় শেষ ধাপে যখন ধোয়া হয়, তখন নিরাপদ পানি; প্রথম ধাপগুলোতে সাধারণ কলের পানি ব্যবহার করলেই চলে)। খাওয়ার পানিও হোক নিরাপদ। পানি ফুটে ওঠার পর ২০ মিনিট উচ্চ তাপে চুলায় রাখলে সেটিকে নিরাপদ পানি হিসেবে ধরে নিতে পারেন। এর বদলে আধুনিক প্রযুক্তি (রিভার্স অসমোসিস) সম্পন্ন ফিল্টার ব্যবহার করলেও পানি নিরাপদ থাকে। সাধারণ ফিল্টার কিন্তু পানিকে নিরাপদ করতে পারে না।

মন্তব্য