মতামত

জিরো টলারেন্সের প্রধানমন্ত্রীর দেশে ত্রাণ চুরি হয় কেন?

2020/04/sangbad247-40.jpg
খালেদ মুহিউদ্দীন

ত্রাণের চাল চুরির খবর প্রথম দিকে আমি বিশ্বাস করতে চাই নাই৷ উন্নয়নের ঝলমলে জামার পকেট থেকে বা পকেট কেটে এত টাকার নয়ছয় করার পর এই সামান্য খুদ-কুড়ো নিয়ে কারাই বা আগ্রহী হবে?

এই দেশে বালিশ কিনলে টাকা, বালিশ তুললে টাকা, বন্যা হলে বা বাঁধ নির্মাণে টাকা, টাকা কোথায় নাই বলুন?

পরে বুঝলাম চুরি একটা বিদ্যা এবং গুরুজনেরা যথার্থই বলেছেন অনভ্যাসে বিদ্যানাশ৷ করোনার আক্রমণে এখন না হয় উন্নয়ন বন্ধ আছে, করোনা থামলে, এমনকি কমলে আবারও উন্নয়ন শুরু হবে৷ বিদ্যাটা ভুল গেলে চলবে? তাই চুরি চলছে, চলছে জোচ্চুরি৷

সরকারের নীতিনির্ধারক বা পরামর্শক বলে দাবি করেন এরকম ব্যক্তিদের সঙ্গে মাঝে মধ্যে আমার দেখা-সাক্ষাৎ বা আলাপ-সালাপ হয়৷ নিজেদের পরামর্শক বা নীতিনির্ধারক দাবি করেন বলছি এই কারণে, কাগুজে বিজনেস কার্ড বা তামারঙের ফলকে লেখা ওইসব কথায় আমার খুব প্রতীতি জন্মায় না৷ এইদেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অমুক খুনি বা অপরাধী ধরার জন্য সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন৷ বিসিবি প্রধান বলেন, কে খেলছেন কে খেলবেন না তার খবর সবসময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাখেন৷ এমনকি জাতি কীভাবে হাঁচি দেবে সেটাও প্রধানমন্ত্রীকে নাকে-কনুইয়ে শেখাতে হয়৷

যাক, প্রধানমন্ত্রীর পারিষদদের কথায় ফিরে আসি৷ নিবিড় আলাপের সুযোগ হলে তারা প্রথমেই জানিয়ে দেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স৷ তিনি এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেন না৷ আর সবকিছুর উপরে তার নজরে আছে৷

বিনীত জানতে চাই, তাহলে ভাই দেশে এত দুর্নীতি হচ্ছে কেমনে? কেমনে শতগুণ সম্পদ বাড়ছে এমপি, মন্ত্রী বা তথাকথিত ক্ষমতাধরদের৷ প্রশাসন বা পুলিশের বড় কর্তাদের এত টাকা আসছে কোথা থেকে? কোন জাদুবলে যুবলীগ করে, এমনকি যুবলীগ নেতাদের শুধু সঙ্গে থেকে এত টাকা এত ক্ষমতার মালিক হচ্ছে ওমুক আর তমুক? জবাব আসে, দুর্নীতি সব সময়ে হয়েছে, কিন্তু আপনি দেখেন কেউ পার পেয়েছে কিনা৷

আলাপ চালিয়ে যেতে আর উৎসাহ না পেলেও জানতে চাই, সব দুর্নীতিবাজ ধরা পড়েছে বলতে চান? তাদের গলায় অসন্তোষ দেখা দেয়, মানে, সবকিছু তো একদিনে হবে না৷ তবে সবাই ধরা পড়বে? আমি ভালো করে বুঝে নিতে চাই, তার মানে হলো কিছু লোক ধরা পড়ছে আর কিছু লোক ধরা পড়ছে না? অনেকটা তাই, জনাব গুরুত্বপূর্ণ একমত হন৷ আমি আবার জানতে চাই, মানে এই পিক অ্য্যন্ড চুজ কীভাবে করা হচ্ছে? মানে কাকে এখন ধরা হবে কাকে পরে, সেটা কিভাবে ঠিক করা হয়?

পরামর্শক মহোদয় এ পর্যায়ে মোটামুটিভাবে রেগে যান৷ বলতে থাকেন, আপনি জানেন, প্রশাসনে, পুলিশে, এমনকি দলেও বিএনপি-জামায়াতের কত লোক ঘাপটি মেরে বসে আছে? আমরা তো পুরো শুদ্ধিকরণ করতে পারিনি৷ খোঁজ নিলে দেখবেন, তারাই এসব অঘটন ঘটাচ্ছে৷ রূপপুর বালিশ কাণ্ডের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সংসদে এরকম কথা বলেছিলেন না? সম্মতিসূচক নীরব থাকেন আমাদের তিনি৷

এবার আমিও একমত হই৷ আমার গুরুর শিক্ষা অনুসারে যে যা বলে সবই বিশ্বাস করি আমি৷ তাই মনে করি, ১৩ বছর ক্ষমতায় না থাকলেও এই দেশে জামায়াত-বিএনপিই সবচেয়ে শক্তিশালী৷

মন্তব্য