অর্থনীতি

করোনার অযুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উত্তাপ কমছেইনা

2020/09/05/_post_thumb-2020_09_05_14_50_35.png

একদিকে মানুষের আয় কমছে অন্যদিকে করোনার অযুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম জেন বেড়েই চলছে। বাড়তি দাম মিটাতে হিমশিম খাচ্ছে  নিম্ন আয়ের মানুষ

করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে কমেছে মানুষের আয় রোজগার। বিপরীতে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এ যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা। ইতোমধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতের আগাম শাক সবজি। আগামী বাঁধাকপি, ফুলকপি ও শীম বাজারে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু দাম চড়া। ৫০ টাকা কেজি‘র নিচে কোন সবজি নেই বাজারে। সবজির এই চড়া দামের মধ্যে নতুন করে দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের।

বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া কেজিতে রসুনের দাম ২০ টাকা এবং আদার দাম ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয় ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদের পর থেকেই ব্রয়লার মুরগি কম দামে বিক্রি হচ্ছিল। এতো দিন আমরা ১১০-১১৫ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। কিন্তু পাইকারিতে এখন ব্রয়লারের দাম অনেক বেড়ে গেছে। যে কারণে কেজি ১২৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপের শুরুতে ভোগানো আদার দাম যেন আবার পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছে। দফায় দফায় দাম বেড়ে আদার কেজি আবার ২৫০ টাকায় উঠেছে। অবশ্য কোনো কোনো বাজারে ২০০ টাকা কেজিতেও আদা বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এসব বাজারে ১৭০ টাকা কেজিতে আদা বিক্রি হয়েছে।

দাম বাড়ার এ তালিকায় থাকা দেশি রসুনের কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে। আর ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আমদানি করা রসুনের দাম বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আদার দাম দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ছে। নতুন করে আরও বেড়েছে। দেশি আদা এখন বাজারে তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে তার অর্ধেক নষ্ট। যে কারণে আমদানি করা আদার ওপরে নির্ভর করে বাজার চলছে। এ কারণে প্রায় প্রতিদিনই আদার দাম বাড়ছে। দুদিন আগেও আদার কেজি ১৭০ টাকা বিক্রি করেছি। এখন ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। আমদানি করা রসুনের কেজি গত সপ্তাহে ৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এখন ৭০ টাকার নিচে বিক্রি করার উপায় নেই।

এদিকে শীতের আগাম সবজি শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২২০ টাকা। ছোট আকারের ফুলকপি, বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা। এছাড়া গত কয়েক সপ্তাহের মতো এখনো পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি। উস্তের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-১০০ টাকায়। বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা কেজি। এছাড়া পটল, কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা পিস। ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যা ও বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণেই সবজির দাম এমন চড়া। তবে বাজারে শীতের আগাম সবজি আসতে শুরু করেছে। আগাম সবজির সরবরাহ বাড়লে সবজির দাম কিছুটা কমতে পারে।

মন্তব্য