আইন-আদালত

রিফাত হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের রায় আজ

2020/09/30/_post_thumb-2020_09_30_11_19_17.jpg

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যার মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় আজ ঘোষণা করা হবে।

বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের এ রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

২০১৯ সালের ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ আজ বুধবার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইছেন রিফাতের পরিবার। ন্যায্য বিচার প্রত্যাশা করছেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে একটি হত্যাকাণ্ড সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী প্রকাশ্যে শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ)কে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

ঘটনার পরদিন ২৭ জুন রিফাতের বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়ে একে একে গ্রেপ্তার করেন এজাহারভুক্ত আসামিদের।

রিফাতের ওপর হামলার ছয়দিন পর ২ জুলাই ভোর রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন এ মামলার আলোচিত প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড।

মামলা তদন্তের একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী প্রধান সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সম্পর্ক ও হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পান। এরপর মিন্নিকে এই মামলায় সাক্ষী থেকে আসামি করা হয়। রিফাত হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রধান সাক্ষী থেকে মিন্নি আসামি হয়ে যাওয়ায় মামলাটি মোড় নেয় অন্যদিকে।

রিফাত হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ছয়দিন পর গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এদের মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। প্রাপ্ত বয়স্ক আসামিদের বিচারিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত চার্জ গঠন করেন। তবে মামলার অন্যতম আসামি মুসা বন্ডকে এখনো পলাতক রয়েছে।

গত ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্নের মধ্য দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে আদালত।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ আসামির রায় ঘোষণার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করে আদালত।

নিহত রিফাতের বাবা আ. হালিম দুলাল শরীফ বলেন, আমার ছেলে হত্যার আসামিদের বিচার কার্যক্রম শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই। সেই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই যারা আমার ছেলের হত্যাকারী চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করেছে।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি আমার আস্থা আছে। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কামনা করছি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ভুবন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলাটি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করেছে। এ মামলায় ৭৬ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

এই মামলার জব্দকৃত আলামত, মোবাইল সিডিআর, ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ আদালতে পেশ করা হয়েছে। আমরা মনে করি যেভাবে সাক্ষী দেওয়া হয়েছে তাতে রাষ্ট্রপক্ষ আশা করে এই মামলায় আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রত্যাশা করে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী সাইমুল ইসলাম রাব্বি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত যুক্তিতর্ক আমরা খণ্ডন করে আদালতে আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছি। আমরা আদালতে যে তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেছি তাতে এই মামলায় আসামিরা ন্যায় বিচার পাবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।

মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, আমরা রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় শুরু থেকে বলে আসছি মিন্নি নির্দোষ। রিফাত শরীফ মৃত্যুর পূর্বে যেসকল কথা বলে গেছে তাতে মিন্নি এই মামলার সাক্ষী কিন্তু কিন্তু মিন্নিকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমরা মিন্নির পক্ষে আমাদের যুক্তিতর্ক ও তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে আসছি। আমরা আশা করি মিন্নি এই মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হবে।

এ মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিচার কাজ শুরুর সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত ৮ জানুয়ারি জেলা নারী ও শিশু আদালতে পাঠান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এরপর এ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ব্যতীত ৭৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন আদালত।

মন্তব্য